রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন

‎”বাল্যবিবাহ দিলেই লাইসেন্স বাতিল” লালমনিরহাটে নিকাহ রেজিস্টারদের সতর্ক করলেন ত্রাণমন্ত্রী দুলু

‎লালমনিরহাট প্রতিনিধি ॥
‎দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহকে সমাজের অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাল্যবিবাহ নিবন্ধনে কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

‎শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট সার্কিট হাউজ হলরুমে জেলা প্রশাসন আয়োজিত নিবন্ধিত মুসলিম নিকাহ রেজিস্টার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎​ত্রানমন্ত্রী দুলু বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সুন্দর জীবনের শুরুতেই যবনিকা টেনে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স জালিয়াতি করে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করা হচ্ছে। যে নিকাহ রেজিস্টারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা রেজিস্ট্রি হবে, তার বিরুদ্ধে শুধু মামলা নয়, বরং তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
‎​
‎​মন্ত্রী আরও যোগ করে বলেন, একটি আলোকিত ও সমৃদ্ধ লালমনিরহাট গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। আর এর প্রধান বাধা হলো বাল্যবিবাহ।

‎মন্ত্রী রেজিস্টারদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, বিয়ের আগে বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তবেই বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে হবে। কোনো চাপের মুখে বা প্রলোভনে পড়ে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করা যাবে না।
‎যেখানেই বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া যাবে, সেখানেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে তা রুখে দিতে হবে।

‎দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের প্রবণতা রোধে নিকাহ রেজিস্টারদের (কাজী) উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের প্রবণতা রোধে নিকাহ রেজিস্টারদের অবশ্যই সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও রেজিস্টারদের এগিয়ে আসতে হবে।

‎মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সময়ের সামাজিক অস্থিরতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, পারিবারিক কলহ, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং ব্যক্তিগত নৈতিকতার চর্চা কমে যাওয়ায় তালাকের হার দিন দিন বাড়ছে। এটি একটি সুস্থ সমাজের জন্য অশনিসংকেত।

‎তিনি আরও যোগ করে বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে।
‎​রেজিস্টারদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা

‎​বিবাহ নিবন্ধকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী দুলু বলেন, আপনারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিয়ের নিবন্ধনের সময় যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি বিচ্ছেদ ঠেকাতেও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

‎​মন্ত্রী আরও বলেন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ একে অপরের পরিপূরক। এই দুটি ব্যাধি নির্মূল করতে পারলে সমাজে তালাকের হার এমনিতেই কমে আসবে।

‎জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাস, নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন, ​সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নিকাহ রেজিস্টার ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com